ভুয়া সার্টিফিকেট এর জন্য বহির্বিশ্বে সুনাম ক্ষুন্ন। এ দায়ভার কার?

ভুয়া-সার্টিফিকেট-এর-জন্য-বহির্বিশ্বে-সুনাম-ক্ষুন্ন।-এ-দায়ভার-কার

নিঃসন্দেহে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে কিন্তু এর দায়ভার কে নিবে? ইতালীর বিভিন্ন নিউজ পেপারে বাংলাদেশের ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট নিয়ে হেডলাইন হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা প্রবাসীদেরকে ভাইরাসবাহী বোমার সঙ্গে তুলনা করা হয় ঐসব নিউজ পেপারে।

ইতালীতে করোনা ভাইরাস সূচনাকালে কিছু প্রবাসী প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছিল এবং এর মধ্যে অনেকে আবার করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিল। আমরা তখন দেখছিলাম প্রবাসীদের সঙ্গে কি ধরণের আচরণ করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্কের। তখন ফাক কাউন্ট্রি সিস্টেম বলতে পর্যন্ত বাধ্য হয়েছিল।

আমরা প্রবাসীরা প্রতি বছর প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের রেমিট্যান্স হিসাবে পাঠিয়ে থাকি এর থেকে ২% ইনভেস্ট করলেও প্রবাসীদের ভালো কোনো জায়গায় কোরানটাইনের ব্যবস্থা করতে পারতো দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেফটির জন্য হলেও। যা ইন্ডিয়া সহ অন্যান্য দেশ করেছিলো।

যাইহোক, আমি পূর্বের ইতিহাস আর টানছি না। মহামারীর কারণে বাংলাদেশ থেকে ইতালী দুই মাস ফ্লাইট বন্ধ ছিল। ১৬ জুন থেকে বিশেষ ফ্লাইট শুরু হয় যখন ইতালীতে লকডাউন শিথিল এবং ভাইরাস কমে আসে । এরপর গত দুইসপ্তাহে এক হাজার তিনশত মতো বাংলাদেশী প্রবাসী বিশেষ ফ্লাইটে ইতালীতে পৌঁছেছেন। তবে টিকেট পেতে এক্সট্রা টাকা পে করতে হচ্ছে এবং লিংক ছাড়া টিকেট পাই নাই অনেকে।

তবে মজার ব্যাপার হলো ফেরত আসা প্রবাসীদের করোনা ভাইরাসের নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকার সত্ত্বেও যখন পজিটিভ হওয়া শুরু হয় তখন ইতালীয়ান সরকার সব ধরণের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। প্রশ্ন হলো পূর্বে যখন ভুয়া সার্টিফিকেটের জন্য কোরিয়া এবং জাপান এর ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিলো তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ক কেনো পদক্ষেপ নেই নাই কেন । ওই ঘটনা থেকে তাদের শিক্ষা উচিত ছিল না? পরবর্তী ফ্লাইট চালু করার পূর্বে এইদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল যা কোরিয়া এবং জাপানের সাথে হয়েছিল তা যেন অন্য দেশে সাথে না হয়।

কিছু প্রবাসী বাংলাদেশে গিয়ে ও যেমন কোরানটাই মানতে রাজি ছিল না আবার ইতালীতে আসার পর হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক থাকার সত্বে ও পালন করে নাই। এর মানে এই না যে গুটি কয়েকজনের জন্য ফ্লাইট বাতিল করে দেয় ইতালীয়ান সরকার। কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে যারা কোয়ারান্টাইন পালন করে নাই।

ফেসবুক পাতায় পাঠক আব্দুর রহমান তার ভাবনার কথা জানিয়েছেন, এভাবে ভুয়া সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ইতালী যখন ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র পতিমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন যে , কিছু প্রবাসীদের জন্য আজ এই অবস্থা। কিন্তু ভুয়া সার্টিফিকেটে কে প্রদান করলো এবং এই সার্টিফিকেট কোথায় থেকে আসল এ নিয়ে কোনো বিবৃতি আসে নাই।

কাজী আসাদ্দুজ্জামান মুন্নার মতে, তিনি ফেইসবুক লিখেছেন, ইতালি ফেরত প্রবাসীকে নিয়ে হাজারো বাংলাদেশি মানুষ Fb তে টল শুরু করে দিছে!কিছুদিন আগে এই প্রবাসী বাংলাদেশের সিস্টেম নিয়ে গালি দিছে। তা হলে ওনি কি জন্য আজ ইতালিয়ান পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও ইতালি থেকে ফেরত আসতে হয়ছে! নিজের সুস্থ বিবেক কে একবার প্রশ্ন করছেন!!! নাকি তার জন্য সময় হয়নি!বাহ কত সুন্দর….আজ এসকল সিস্টেমের জন্য আমরা প্রবাস ও যেতে পারছি না। কই কেউতো এই সিস্টেম নিয়ে কথা বললনা। কিভাবে এত ভূয়া সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশ গেল। কোথায় আজ দেশের ব‍্যবস্থা। কে দায়ী এসবের জন্য।